প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আত্মহত্যা করেছেন রুম্পা, ধারণা তদন্তকারীদের

সুজন কৈরী : রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। তবে ঘটনাস্থলসহ আশপাশ থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত ও মৃত্যুর আগে বান্ধবীদের সঙ্গে রুম্পার কথোপকথনের সূত্র ধরে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন ঘটনাটি আত্মহত্যা।

এদিকে শনিবার রাতে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে রুম্পার সাবেক প্রেমিক আবদুর রহমান সৈকতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। সৈকত স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর সাবেক শিক্ষার্থী। পরে তিনি চলে যান আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। সৈকতকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ রোববার আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে পুলিশের। পুলিশ বলছে, হত্যা মামলাটি আত্মহত্যা মামলা হয়ে সৈকতকে প্ররোচনায় অভিযুক্ত করা হতে পারে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৈকত একজন ‘প্লেবয়’। তিনি বিভিন্ন সময় ‘গ্রুপ সেক্সও’ করতেন। অনেক মেয়ের সঙ্গেই তার সম্পর্ক ছিলো। রুম্পার সঙ্গে সম্পর্কের একপর্যায়ে গত ৩/৪ মাস আগে সম্পর্ক আর রাখা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন সৈকত। কিন্তু রুম্পা সৈকতের প্রতি খুবই দুর্বল ছিলেন। এ নিয়ে ঘনিষ্ট ও কলেজের বান্ধবী সুলতানার সঙ্গে কথা বলেন রুম্পা। সুলতানা ঘটনাস্থলের পাশের ভবনের ৫ তলায় থাকেন। মাঝে মাঝে সেখানে রাতে রুম্পাও থাকতেন। সৈকত সম্পর্ক না রাখার কথা জানালে রুম্পা তা মেনে নিতে পারেনি। এ বিষয়টি রুম্পা সুলাতানার সঙ্গে শেয়ার করেন। ঘটনার দিন বিকেলেও এ বিষয়ে আলোচনার জন্য সুলতানার বাসায় গিয়েছিলেন রুম্পা। এছাড়াও সুলতানাকে সব কিছুই রুম্পা বলতেন। একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঘটনার দিন দুপুরে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সৈকত যাওয়ার পর সুলতানা তাকে সম্পর্কটি রাখার কথা বলেন। কিন্তু সৈকত আবারো সম্পর্ক রাখা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন। এতে রুম্পা বিষন্ন হয়ে পড়েন। এরপরই সহপাঠী আবিদা নামের একজন বান্ধবীকে রুম্পা ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে নক করে বলেন, ‘দোস্ত আমাকে মাফ করে দিস, ভুল হলে। আমার জীবনের সব কিছুই শেষ’। এছাড়া ঘটনাস্থলের দক্ষিণ পাশের একটি ছাদ থেকে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি চুল, সিগারেটের উচ্ছিষ্ট অংশ, স্যান্ডেলের ছাপ এবং ব্যবহৃত কনডমসহ কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনাস্থলের পাশে ৩টি ভবন রয়েছে। এর একটিতে রেলিং আছে। বাকি দুটিতে নেই। আলামত ও বান্ধবীদের সঙ্গে কথোপকথনের সূত্র ধরে তদন্তকারীদের ধারণা রুম্পা আত্মহত্যা করেছেন। তবে সৈকতসহ বান্ধবীদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে। এছাড়া প্রযুক্তির ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে তদন্তকারীদের। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন আলামত ও রুম্পার মোবাইল ফোন ফরিনসিক পরীক্ষা-নীরিক্ষা করছে সিআইডি। এর প্রতিবেদনেই রুম্পার মৃত্যুর রহস্য ভেদ করবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রুম্পার বান্ধবী সুলতানা ঘটনাস্থলের পাশেই থাকেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিন ক্যাম্পাস থেকে সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনার জন্য সুলতানার বাসায় গিয়েছিলেন রুম্পা। সেখান থেকে শান্তিবাগের বাসা হয়ে রুম্পা চলে যান প্রাইভেট পড়াতে। এরপর সেখান থেকে আবারো বাসার সামনে গিয়ে মোবাইল, ভ্যানিটি ব্যাগ, স্বর্ণলঙ্কার ও জুতা পরিবর্তন করেন এবং সেখান থেকে কোথাও যান। কিন্তু ওই সময় তিনি সিদ্ধেশ্বরীর ওই স্থানে গিয়েছিলেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। কারণ হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, সুলতানা জানিয়েছেন যে, ঘটনার দিন একবারই রুম্পা সুলতানার বাসায় গিয়েছিলেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৈকতকে নিয়ে খুব স্বপ্ন ছিলো রুম্পার। তার প্রতি আবেগ ছিলো খুব বেশি। ঘটনার দিন সৈকতের সঙ্গে দেখা করার জন্য ভালো জামাও পড়েন রুম্পা। ওই জামা পড়েই তিনি ক্যাম্পাসে যান। কিন্তু সৈকত রুম্পার যাওয়ার বিষয়টি জানতেন না। ক্যাম্পাসে রুম্পাকে দেখে সৈকতও অবাক হন। সৈকতের সঙ্গে যে কথা হতো তা বান্ধবী সুলতানাকে বলতেন রুম্পা। রুম্পা ও সৈকতের মধ্যস্থতাকারী ছিলেন সুলতানা। সম্পর্ক না রাখার কথা জানালে গত তিন-চার মাস আগে আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের ছাদে উঠেছিলেন রুম্পা। তখন সবাই মিলে জোর করে তাকে নামিয়ে আনেন। আসলে সৈকতের এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি রুম্পা। যে কারণে হয়তো ওই সময় রুম্পা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সৈকত ও রুম্পার কথোপকথন হতো অনলাইনে। ৯৯ শতাংশ কথাবার্তাই হতো হোয়াটস অ্যাপ, ম্যাসেঞ্জারে।
সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই সুলতানা তার ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাক্টিভ করে দেন। পরে অবশ্য আবার চালু করেন। এছাড়া এ ঘটনায় রুম্পার আরেক বান্ধবী আদিবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে সহায়তাকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটির সিরিয়াস এন্ড হোমিসাইডাল স্কোয়াডের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রাজিব ফারহান বলেন, রুম্পার মৃত্যুর বিষয়টি মূলত থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে। সিআইডি তাদের সহায়তা করছে। রুম্পার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ কিছু আলামত সিআইডিতে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। সম্পাদনা : মাজহারুল ইসলাম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত