প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শীতে অ্যাজমা থেকে বাঁচার উপায়

নিউজ ডেস্ক: অ্যাজমা হলো শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত দীর্ঘমেয়াদি একটি রোগ। শ্বাসনালি ফুলে যায় এবং অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এতে হাঁপানির বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন- কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ চাপ অনুভব করা, দম নিতে কষ্ট হওয়া এবং বাঁশির মতো শোঁ শোঁ আওয়াজ হওয়া ইত্যাদি। এ অবস্থায় শ্বাসনালিতে ধুলা, বালি গরম বাতাস প্রবেশ করে তাহলে রোগের মাত্রা বেড়ে যায়। সূত্র: বণিক বার্তা

তাই শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে এর প্রকোপ। তবে সঠিক ও নিয়মিত চিকিৎসার ফলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব। পরিসংখ্যান বলছে, সারা বিশ্বে ৩০ কোটির বেশি মানুষ এ্যাজমা বা হাঁপানিতে আক্রান্ত।

বাংলাদেশে এর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখের মতো। প্রতি বছর এদেশে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অ্যাজমায় আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশকে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর শিশুরা ছয় থেকে আটবার ঠাÐায় আক্রান্ত হয়, তবে অ্যাজমায় আক্রান্ত শিশুদের এ সংখ্যা আরো বেশি। তাদের ঠান্ডায় আক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী লক্ষণগুলো খারাপ হয়। ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শিশুদের এমন লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে। এজন্য যতœশীল হতে হবে। বাইরের ধুলোবালি পরিবেশ থেকে শিশুদের যতটা দূরে রাখা যায়, ততোই ভালো। অনেক শিশু মুখে আঙুল দেয়, হাতের মাধ্যমে জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। শিশুরা মুখে হাত না দেয় সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং তাদের হাতে যেন নোংরা না থাকে।

অ্যাজমা হওয়ার একটি বড় কারণ হলো অ্যালার্জি। শীতে ঘরের মেঝেতে কার্পেট বিছানো হয়। কার্পেটের সঙ্গে মিশে থাকা ধুলোবালির কারণে অ্যালার্জি বেড়ে যায়। শীতকালে অ্যালার্জির থেকে বাঁচতে নিয়মিত কার্পেট পরিষ্কার রাখতে হবে ও ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।

বাড়িতে অনেকে শখের বশে বিড়াল কিংবা কুকুর পুষে থাকে। এগুলো অ্যালার্জেন বহন করে। এসব অ্যালার্জেনের কারণে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব প্রাণীদের থেকে দূরে থাকা ভালো। তাহলে অ্যালার্জেনের ঝুঁকি কমে যাবে।

অ্যাজমা থেকে দূরে থাকতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার বিকল্প নেই। হাত পরিষ্কার রাখতে হবে। নাক ও মুখ থেকে হাত দূরে রাখার চেষ্টা করুন। বাইরে থেকে এসে অবশ্যই সাবান পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। এতে করে কোল্ড ও ফ্লুর ভাইরাস দূর হয়ে যাবে। এসব ভাইরাস অ্যাজমার সমস্যা বাড়াতে সাহায্য করে।

খাবার শেয়ারের মাধ্যমে একজনের জীবাণু অন্যের শরীরে প্রবেশ করে থাকে। খাবার বা ড্রিংকস জাতীয় খাবার অন্যের সঙ্গে শেয়ার করে না খাওয়া ভালো। শুধু খাবার নয়, আমরা অনেকে মোবাইল ব্যবহার করি এ মোবাইলের মাধ্যমে কিন্তু নানা ধরনের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। তাই নিজের মোবাইলটি নিজের কাছে রাখুন। অন্যের হাতে দেয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে যাদের অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে।

যাদের অ্যাজমা আছে, তারা নেবুলাইজার ব্যবহার করেন। নেবুলাইজার ব্যবহারে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। এটি পরিষ্কার আছে কিনা, ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা এসব দিকে খেয়াল রাখতে হবে। নেবুলাইজার নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে এবং ছয় মাস অন্তর নেবুলাইজার পরিবর্তন করতে হবে। অনুলিখনে: জেবা আফরোজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত