প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অটো রিকশা চালিয়েই স্বাবলম্বী সুমি

মুসবা তিন্নি : সুমি একজন স্বাবলম্বী ওটো রিকশাচালক। তার জন্মস্থান নাটোরের বনগ্রামের পার্বণী সাঁওতাল উপজাতি এলাকায়, সে খৃষ্ট ধর্মের অনুসারী। খুব ছোট বয়সে তার বিয়ে হয়ে যায় এবং দুই সন্তান জন্ম হওয়ার পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তার স্বামী হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তারপরই শুরু হয় সুমির জীবনযুদ্ধ।

সুমির নিজের মা, বাবা মারা যাওয়ায় এবং পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো স্বজন না থাকায় অল্প বয়সেই জীবিকার তাগিদে দুই পুত্র সন্তান নিয়ে তিনি নাটোর ছেড়ে চলে আসেন রাজশাহী শহরে, এখানে তিনি প্রথমে একটি ক্লিনিকে আয়ার কাজ নেন, কিন্তু দীর্ঘদিন এ পেশায় থাকার পরও আর্থিক সমস্যা থেকেই যেতো উপরন্তু সন্তান ও পরিবারের জন্য তিনি সময় বের করতে পারতেন না।

সরজমিনে সুমির কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে প্রচুর পরিশ্রম, দিন নাই রাত নাই খাটতে হতো। খাওয়ার ঠিক নাই, গোসলের ঠিক নাই আমার ছেলেরা সব নেশার দলে মিশতে শুরু করে, তার ওপর আয়ার কাজ করে খুবই সামান্য টাকা আয় হতো, যা দিয়ে আমার ঘরভাড়া ও খাবার যোগান দেয়া খুবই কষ্ট সাধ্য হয়ে যেতো।

এরপরই সে নিজে রিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, ছোটবেলায় সাইকেল চালানোই অভস্থ্য থাকায় সাহস করেই রিকশা চালানোর কথা ভাবেন। তার যুক্তিতে, তিনি প্রায় ছয়/ সাত মাস যাবত প্রতিদিনের জমাদেয়া রিকশা চালান। যেখান থেকে তিনি রিকশা নেন সেখানে চুক্তিতে সারাদিনে তিনশত টাকা জমা দিলেই বাকিটা তার নিজের জন্য রেখে দিতে পারেন। এতে করে তার অনেক টাকা আয় না হলেও তিনি তার ইচ্ছে মতো তিনশত জমার টাকা যুগিয়ে নিজের জন্য সময় বাঁচাতে পারে এবং আয়ার কাজের চেয়ে এই কাজে তিনি আনন্দও পান।

তিনি বলেন, যখন পুরুষ মানুষদের টপকে একজন নারী হয়েও নিজের রিকশা আমি ছুটিয়ে চলি তখন আর নিজেকে নারী হিসেবে ভাবতে খারাপ লাগে না। কারণ আমাদের সমাজে নারীদের যেহেতু কমজোরি ভাবা হয় সেখানে আমি রিকশা চালিয়ে বুঝিয়ে দিতে পারি নারীরা সব কাজই করতে পারে।

তবে তিনি জানান, তার এই রিকশা চালানোর কাজে তিনি কখনো বাধা প্রাপ্ত হয়নি! নারী, পুরুষ সবার কাছে থেকেই তিনি উৎসাহ পেয়েছেন। রিকশা চালক এবং তার নির্দিষ্ট গণ্ডীর মধ্যে তার এই সাহসী কাজের জন্য তিনি”লেডী ডন” নামে বেশি পরিচিত।

সুমি খৃষ্টান হওয়ায় আজ তার ধর্মীয় উৎসব ‘বড়দিন’ তবুও আজও তিনি সকালে চার্চে গিয়ে প্রণাম সেরেই রিকশা নিয়ে বেড়িয়ে পরেছেন, আজ তার কিছু টাকার প্রয়োজন, বড় ছেলের সে বিয়ে দিয়েছে সে ঘরে একটা নাতিও আছে তার। নাতির জন্য কিছু কেক, মিষ্টি ও চকলেট কিনতে চান তিনি। দিনশেষে পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়ে চলেছে নিজের পরিশ্রম দিয়ে। ভবিষ্যতে একটি রিকশা গ্যারেজ দেয়ার ইচ্ছে আছে বলে তিনি জানান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত